ছুটিতে মাদারীপুরের শকুনি লেক ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

শকুনি লেক ঘিরে এবার ঈদের ছুটিতে আনন্দে মেতেছিলেন মাদারীপুরবাসী। যেকোনো বিশেষ দিনে শকুনি লেক এখানের বাসিন্দাদের মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। আর ঈদ হলে লেক ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় যেন আরও জমে ওঠে। এবার ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে এসেছে পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট।

ঈদুল আজহার প্রথম দিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লেকের পানিতে নামানো হয় চারটি প্যাডেল বোট। নতুন এই আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থীদের ঈদ আমেজ এখনো রয়েছে শকুনি লেক ঘিরে। রাতেও কমতি নেই লোকের আনাগোনা।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হয়। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল লেকটি। পরে ২০১৩ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। শকুনি লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে নেওয়া হয়েছে নতুন কয়েকটি প্রকল্প। এর মধ্যে শকুনি লেকের একটি অংশে শিশুদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুপার্ক। এই পার্কের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ঈদের ছুটিতে শকুনি লেকে দর্শনার্থীর ভিড়। ছবি: প্রথম আলোঈদের ছুটিতে শকুনি লেকে দর্শনার্থীর ভিড়। ছবি: প্রথম আলো জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আল-মামুন বলেন, লেকটির সৌন্দর্যবর্ধনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি প্যাডেল বোট পানিতে নামানো হয়েছে। এ ছাড়া লেকের দুটি অংশে পন্টুন দেওয়া হয়েছে। আরও আট লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্যাডেল বোট খুব শিগগির নামানো হবে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লেকটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। গতকাল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড়। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। কেউবা সেলফি তুলছেন। কেউ কেউ প্যাডেল বোটে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন। লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে মনভরে শহরটিকে দেখছেন দর্শনার্থীরা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলা, পানারাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পরিবার নিয়ে শকুনি লেকটি উপভোগ করতে এসেছেন সাকিব হাসান নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের খুশি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার নিয়ে মাদারীপুরের লেকটি দেখতে এলাম। এখানে এসে মুক্ত পরিবেশ দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে আরও ভালো লেগেছে। লেকটি দেখে আমার পরিবারের শিশুরাসহ সবাই খুশি।’

শকুনি লেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। ছবি: প্রথম আলোশকুনি লেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। ছবি: প্রথম আলো টুনটুনি আদৃতা নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ, গাছপালা, মানুষের আনাগোনা—সবকিছু দেখতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।

লেকে প্রায়ই ঘুরতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ আসে। আমরাও আসি।’ তাঁর মতে, লেকের একটি অংশে স্থাপনা নির্মাণ করে মাদারীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা গেলে দর্শনার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারতেন।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, লেকটিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ঈদের দিন থেকে অন্তত ১০ দিন ধরে থাকে। দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে সদর থানার পুলিশের একটি দলকে সার্বক্ষণিক লেকের বিভিন্ন অংশে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো