সরকারি চাকরিতে প্রায় ৩ লাখ পদ খালি

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এই মন্ত্রণালয়ে মোট ৫৮ হাজার ৯৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে। তার মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪১ হাজার ৮৬৯টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ৮৩৭টি। এ ছাড়া কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ২৮৩টি পদ খালি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মন্ত্রী জানান, সরকারি অফিসসমূহে শূন্য পদে লোক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর অধীনে সংস্থার সমূহে চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৯ম ও ১০ম গ্রেডের (১ম ও ২য় শ্রেণি) শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ১৩-২০ গ্রেডের (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি) পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থা জনবল নিয়োগ করে থাকে। শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ৩৪ হাজার ৯২৩টি পদ খালি রয়েছে। এ ছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগে ২৮ হাজার ৩৫০টি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৫ হাজার ৫২৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ১৫৫টি, কারিগরি মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ২৮৩টি পদ খালি রয়েছে। এরকম সব মন্ত্রণালয়ে কম বেশি পদ খালি রয়েছে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবিধানিক অনুশাসন অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধা ক্রমানুসারে পাঁচ ধরনের কোট পদ্ধতি অনুসরণ সাপেক্ষে চাকরিতে যোগদান করানো হয়। এসব কোটাসমূহের মধ্যে মেধাভিত্তিক (জেলা কোটা বহির্ভূত) ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ শতাংশ এবং জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১০ শতাংশসহ মোট শতভাগ। তবে, প্রাধিকার কোটার অপূরণকৃত ১ শতাংশ কোটা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হয়ে থাকে।
মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ: প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানান, শুধু খাদ্য নয়, মাছেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা যদি গুণগতমান ঠিক রাখতে পারি তবে চিংড়ি ছাড়াও অন্যান্য মাছ বিদেশে রপ্তানি করে মৎস্য চাষিরা লাভবান হতে পারবে। সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৭০৬ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে ৪৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। একই অর্থবছরে রপ্তানির মাধ্যমে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২ দশমিক ৩২ শতাংশ।
সুএঃ মানবজমিন